Tuesday, 26 May 2026

হু কেয়ার্স!

ঠিক মনে নেই, সালটা ১৯৮৪-৮৫-৮৬-৮৭ হবে। তখন ক্রিকেটের খুব চল! কপিল দেব-রা তখন একেকজন আকাশের তারা। বোলার কাদের খান, ব্যাটে, ১ বলে ৫ রানের প্রয়োজন! কী-এক অন্য ভুবনের উত্তেজনা! এইটা একটা কথা—বোলার কাদের খান ছক্কা মেরেই দিলেন!

তখন একটা কাঠের বল দিয়ে খেলার জন্য ব্যাট না-কিনে পারা যায় বুঝি। কিন্তু তাই বলে তখন আমার মত ছলিমুল্লা-কলিমুল্লা ২৯৫০ টাকা দিয়ে টেস্ট-ম্যাচ খেলার ব্যাট কেনে বুঝি!

আহা, এই ব্যাট, কাঠের বল দিয়ে খেলার যে আনন্দ তা 'ইয়েতে' কোথায়!

কপালের ফের, কংক্রিটের বস্তিতে চলে আসতে হলো। এখানে খেলার জায়গা কোথায়! আমার সমস্ত জীবনে কোন কাজ ঠিকঠাক শিখতে পারিনি, করতে পারিনি। কিন্তু জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ কিছুই বাদ যায়নি! আসার সময় এই ব্যাটটাও নিয়ে এসেছিলাম। 

আমার স্বপ্নগুলো ছোট-ছোট। প্রাণ আটকে থাকে একটু যদি খেলতে পারতাম। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও মন্দ কী! আমি যেখানে থাকি, সামনে ছোট্ট একটু ফাঁকা জায়গা আছে। খেলা যায় কিন্তু খেলব জার সাথে? আমার পোলাকে বলার পর তার সাফ উত্তর, আমি ক্রিকেট খেলতে পারি না! এই হচ্ছে, এখনকার প্রজন্ম। এদের কাছে আবেগ বাদামের খোসা!


কিন্তু বাহে, আমাকে দাবায়া রাখতে পারবা না! কানাডা থেকে একজন এসেছে তাকে খেলায় লাগিয়ে দিয়েছি!

চারদিকে আমার এন্টিকের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বাট, হু কেয়ার্স!

এই আনন্দ কোথায় রাখি!



Saturday, 19 June 2021

কী ভয়ংকর!


দেখলে মনে হবে 'লুকটা' বড় আবেগ দিয়ে গাইছে। এবং নিঃসন্দেহে ভাল গাইছে। কিন্তু কেবল একটা স্টিল ছবি দিয়ে যে-কোনও মানুষকে দিয়ে এমনতরো গান গাওয়ানো সম্ভব! কী সর্বনাশের কথা...!

Sunday, 26 August 2018

শৈশব ফিরে আসে, বারবার।

রেলগাড়ি-ঝমঝম, নীচে পড়লে আলুর দম। রেলগাড়ি নিয়ে আমার শৈশবের যে স্মৃতিটা এখনও দগদগে সেটা হচ্ছে রাতের বেলা বিকট শব্দে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠা। মনে হত কেউ একের-পর-এক কামান দাগছে!

না, কামান রেলগাড়ি দাগে না। ঘটনা অন্য। তখন তো আর কিচেনে কেবিনেট-টেবিনেট টাইপের কিছু ছিল না। আমার মা করতেন কি রাজ্যের হাড়ি-পাতিল দেয়ালে পেরেক মেরে আটকে রাখতেন। হাতুড়ি বিশারদ একজন ছিলেন, মাহতাব মিয়া। তিনি পেরেক মেরে-মেরে বেচারা দেয়ালের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলেন। 
গভীর রাতে দুদ্দাড় করে যখন ট্রেন যেত সেইসব হাড়িপাতিলের অধিকাংশই মেঝেতে শুয়ে পড়ত। তাদের শোয়ার শব্দ ছিল কামান দাগার চেয়ে কম না! তদুপরি আমার কাছে রেলগাড়ির আকর্ষণ ছিল কম না। 

ব্রেন স্ট্রোক সংক্রান্ত গাও-গেরামের একটা কথা আছে, 'ব্রেন লইড়া গেছে'। আসলে ব্রেন বেচারার নড়ানড়ির সুযোগ নাই কিন্তু ব্রেন ঘুঁটা খায় মতান্তরে স্মৃতির নাড়াচাড়া। আহ স্মৃতি, স্মৃতিই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে নইলে কবে আমরা মরে ভূত হয়ে যেতাম- ভূত মানে চলমান জম্বি আর কী।

তো, যেমনটা আজ একে দেখে শৈশব ফিরে আসে...।