ঠিক মনে নেই, সালটা ১৯৮৪-৮৫-৮৬-৮৭ হবে। তখন ক্রিকেটের খুব চল! কপিল দেব-রা তখন একেকজন আকাশের তারা। বোলার কাদের খান, ব্যাটে, ১ বলে ৫ রানের প্রয়োজন! কী-এক অন্য ভুবনের উত্তেজনা! এইটা একটা কথা—বোলার কাদের খান ছক্কা মেরেই দিলেন!
তখন একটা কাঠের বল দিয়ে খেলার জন্য ব্যাট না-কিনে পারা যায় বুঝি। কিন্তু তাই বলে তখন আমার মত ছলিমুল্লা-কলিমুল্লা ২৯৫০ টাকা দিয়ে টেস্ট-ম্যাচ খেলার ব্যাট কেনে বুঝি!
আহা, এই ব্যাট, কাঠের বল দিয়ে খেলার যে আনন্দ তা 'ইয়েতে' কোথায়!কপালের ফের, কংক্রিটের বস্তিতে চলে আসতে হলো। এখানে খেলার জায়গা কোথায়! আমার সমস্ত জীবনে কোন কাজ ঠিকঠাক শিখতে পারিনি, করতে পারিনি। কিন্তু জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ কিছুই বাদ যায়নি! আসার সময় এই ব্যাটটাও নিয়ে এসেছিলাম।
আমার স্বপ্নগুলো ছোট-ছোট। প্রাণ আটকে থাকে একটু যদি খেলতে পারতাম। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও মন্দ কী! আমি যেখানে থাকি, সামনে ছোট্ট একটু ফাঁকা জায়গা আছে। খেলা যায় কিন্তু খেলব জার সাথে? আমার পোলাকে বলার পর তার সাফ উত্তর, আমি ক্রিকেট খেলতে পারি না! এই হচ্ছে, এখনকার প্রজন্ম। এদের কাছে আবেগ বাদামের খোসা!
কিন্তু বাহে, আমাকে দাবায়া রাখতে পারবা না! কানাডা থেকে একজন এসেছে তাকে খেলায় লাগিয়ে দিয়েছি!
চারদিকে আমার এন্টিকের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বাট, হু কেয়ার্স!


