Search This Blog

Loading...

Follow by Email

Monday, 12 November 2012

তিমি মাছের ঝোল এবং...

­সাহাদাত উদরাজী (https://udrajirannaghor.wordpress.com) নিজের ব্লগসাইটে লেখালেখি করেন। তাঁর লেখার বিষয় খানিকটা অন্য রকম। তিনি নিয়মিত লেখেন, রান্নাবান্না নিয়ে। রান্না কি জানি, বান্না জানি না। ভুল বললাম, রান্নাও জানি না। অনেকেই হয়তো জানেন না, আমি একজন কঠিন (!) রান্নাবাজ। কেবল পানি গরম করতে পারি। :)

আমি কি কারণে যেন গুগলে সার্চ দিয়েছিলাম, নিজের নাম লিখে; ওখানে একটা লেখার লিংক পেয়ে যাই: রেসিপি আখাউড়ার ছিটা পিঠা (http://tinyurl.com/a6pmtnq)। লেখাটা পড়ে ভাল লাগল কিন্তু ...। যে মানুষটা একবার মাত্র আখাউড়া গেছেন তিনি আখাউড়া সম্বন্ধে ওখানে লিখেছেন:
"...সীমান্তবর্তী বলে মাদকের ছোঁয়া এত বেশী যে, ঘরে বসেই নানান মাদক দ্রব্য হাতের কাছে পাওয়া যায় আর এই কারনেই এই এলাকার ছেলে মেয়েরা তেমন একটা উন্নতি করতে পারে নাই। সামান্য কিছু লোক ধনী, বাকীরা এখনো গরীবই রয়ে গেছে। পড়াশুনায় এই এলাকার লোকজনের মন আছে বলে আমার মনেই হয় না! বিরাট রেলজংশন থাকার কারনে এই এলাকার মানুষজন আরো বেশী ধুর্ত এবং চালাক কিন্তু কাজের কাজ কিছুই নয়।..." 

এটা পড়ে আমার মেজাজ খুব খারাপ হলো। যা লিখেছেন তার মধ্যে সত্যতার লেশমাত্র নেই এমন না। আমি যেমন আমার সন্তানের প্রতি মমতায় অন্ধ না তেমন এলাকার প্রতিও। কিন্তু...মাত্র একবার এসেই একজন মানুষ দুম করে এমনটা লিখলে মেজাজ ঠিক থাকে বলেন? ! তাই আমি কঠিন এক মন্তব্য করলাম:
"কিছুই আপনার ঈগল-চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি দেখছি! সমস্ত জীবনে কেবল একবারই আখাউড়া গিয়ে (ভাগ্যিস, একবারই গিয়েছেন, বারবার গেলে কী হত এটা ভেবে শিউরে উঠতে হয়) আপনি আখাউড়া সম্বন্ধে যে বর্ণনা দিয়েছেন, বিশদ লিখেছেন তা আপনার বিপুল জ্ঞানের সামনে আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে দেয়।..."

ওয়াল্লা! আমি আরও ভেবেছিলাম, মানুষটা তরমুজ-টমেটোর মত ক্ষেপে লাল হয়ে যাবেন। তারপর আমার দিকে শব্দের মিসাইল-টিসাইল ছুঁড়ে মারবেন। কিন্তু তিনি এর উত্তরে দুম করে একটা পোস্ট দিয়ে বসলেন, ধনিয়া পাতায় চিংড়ি ভুনা (http://tinyurl.com/bqx895z)। হা হা হা, মানুষটাকে বলা হয়নি, চিংড়ি আমার ভারী অপছন্দের।

তো, ওই পোস্টে মন্তব্য করতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু আমার সম্বন্ধে বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলার কারণে কেমন লজ্জা-লজ্জা করছিল। উপায় না-দেখে মন্তব্য করলাম, "....আসেন আখাউড়ায়, তিমি মাছের ঝোল খাওয়াব..."।

ইদের দিনই দেখি মানুষটা ঠিক ঠিক এসে হাজির! মানুষটার মধ্যে খুব তাড়া। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই নাকি তাঁকে চলে যেতে হবে। এই দশ মিনিটটা রাবারের মত টানতে টানতে তিন ঘন্টা হয়ে গেল! মানুষটা কেন দশ মিনিটটাকে টেনে লম্বা করলেন? তিমি মাছের ঝোলের অপেক্ষা করছিলেন! হা হা হা।
দেখো দিকি কান্ড, মানুষটা ফিরে গিয়ে আবার দেখি সিরিজ লেখা শুরু করলেন:
আড্ডা, ...পর্ব, এক: http://tinyurl.com/az6kx9e
আড্ডা, ...পর্ব, দুই: http://tinyurl.com/al2jrm8 

আসলে কিছু মানুষ যা দেখে তাতেই মুগ্ধ হয়। আফসোস, এত মুগ্ধতা নিয়ে আমি যদি জন্মাতে পারতাম! আর এই মানুষটাকে যেটা বলা হয়নি; ওদিন, ইদের দিন আমার মন অসম্ভব, অসম্ভব খারাপ ছিল। মানুষটার সঙ্গে কথা বলতে বলতে কখন মন ভাল হয়ে গিয়েছিল তা আমি নিজেও জানি না। ...। কেবল এই কারণেও আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

সহায়ক সূত্র:
১. রেসিপি ছিটা পিঠা: http://tinyurl.com/a6pmtnq
২. চিংড়ি ভুনা...: http://tinyurl.com/bqx895z
৩. আড্ডা পর্ব, এক: http://tinyurl.com/az6kx9e
৪. আড্ডা পর্ব, দুই: http://tinyurl.com/al2jrm8 

2 comments:

Shahadat Udraji said...

হা হা হা...
লেখাটা চুরি করে নিলাম।
http://wp.me/p1KRVz-uu

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

আচ্ছা :)@Shahadat Udraji